প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 20, 2025 ইং
গোরখোদক মনু মিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন খায়রুল বাসার

জাকির হোসেন রায়হান ,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি::
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি আলগাপাড়া গ্রামের মোঃ মনু মিয়া তিনি তার ৭৬ বছরের মধ্য ৫৭ বছর ধরে মানুষের অন্তিম যাত্রায় খবর খুড়ে আসছেন।
তিনি দা, কোদাল,খুন্তি, নিয়ে রাজা বাদশার মতো ঘুড়ায় চড়ে ছুটে যেতেন খবর খোড়ার জন্য, তিনি খবর খোড়ার জন্য নেন নি কোনো পারিশ্রমিক, বা বকশিস, মানুষের অন্তিম যাত্রায় তিনি নিঃস্বার্থ ভাবে খবর খুড়ে আসছেন।
এমতাবস্থায়, তার বাহাদুর নামে এই ঘোড়াটিকে নির্মম ভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তার কোনো সন্তান নেই, এই ঘোড়া টা ছিলো তার সন্তানের মতন। এমন ন্যায় পরায়ন মহৎ মানুষের ঘোড়াটির হত্যা মেনে নিতে পারছেনা এলাকাবাসী। এ কবর যেন নিমিষেই ছড়িয়ে যাই সামাজিক ও সোস্যাল মিডিয়াতে। সেই পেক্ষিতে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার, তিনি মনু মিয়ার সাথে দেখা করেন।
তিনি মনু মিয়াকে একটি ঘোড়া কিনে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এমন উপহার নিতে কোনো মতেই রাজি নন। বার বার চেষ্টা বিপল হলো খায়রুল বাসার।
খায়রুল বাশার বলেন, “তিন হাজারের বেশি কবর খুঁড়েছেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেছেন নিজের ঘোড়া।সেই ঘোড়াটিকে দুর্বৃত্তরা মেরে ফেলার কথা শুনে তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। কথার এক পর্যায়ে তাঁকে বলি, ‘একটি ঘোড়া আপনাকে কিনে দিতে চাই।’ কিন্তু তিনি ঘোড়া নিতে চান না। কোনোভাবেই তাকে রাজি করাতে পারিনি; বরং তিনি বারবার এটাই জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলে সাতটা ঘোড়া কিনতে পারবেন।
ঘোড়া মারা যাওয়ার কথা শুনে আহত হননি মনু মিয়া। এতেও অবাক হয়েছেন অভিনেতা। বাসার জানান, ঘোড়া মারা যাওয়া নিয়ে তার মধ্যে কোনো দুঃখবোধ নেই। তিনি মনে করেন, তার আছে বলেই গেছে। যার আছে, তার যায়।
এতে কষ্ট হচ্ছে না।
বাশার বললেন, ‘এই মনু মিয়ার সঙ্গে আলাপ হওয়ায় বুঝতে পারলাম, তিনি কারো অনুদান নিতে চান না। সাধ্যের মধ্যেও অনেক কষ্টে তিনি ঘোড়া কিনেছেন। তিনি কোনো দিন কারো কোনো ক্ষতি করেননি। মনু মিয়ার জীবনযাপন মুগ্ধ করেছে আমাকে।’
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Bangabani24